সুনামগঞ্জে পিআইসিরা মুজুরি দেয়না, বিপদে মাটি কাটার শ্রমিকরা

0
210

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি::
“হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধে এক মাস হয় মাটি কাটছি। এখনও পিআইসিরা মুজুরি দেয়নি। পরিবার পরিজন নিয়ে বিপদেই আছি। এমন অবস্থা হলে বাঁধের মাটি কাটা ছেড়ে অন্য পেশায় আয় রোজগার করতে হবে।” সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গাচর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের মাটি কাটার শ্রমিক কমর উদ্দিন এভাবেই তার সমস্যার কথা বললেন এ প্রতিবেদকের কাছে। চলতি বছর কানলার হাওরের ফসল রক্ষা বাধ নির্মাণে তিনিসহ একশো শ্রমিক মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ করেছেন কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি আজো মাটি কাটার শ্রমিকের পাওয়া টাকা পরিশোধ করেনি। শ্রমিক সিরাজ মিয়া বলেন, পাওনা টাকার আদায়ের জন্য পিআইসির বাড়ি আইতে আর যাইতে জুতার তলা ক্ষয়ে যাচ্ছে । খালি কয় বিল পাইলে টেকা দিমু। দিনের পর দিন টাকা লইয়া ঘুরাঘুরি করে। বৃন্দাবন নগরের আরশাদুল ইসলাম বলেন, পিআইসিদের পাওনা টেকার লাগি ফোন দিলে ফোন বন্ধ করি রাখি দেয়, খুঁজে বাড়িত গেলে ঘরের মাইসে কয় তাইন বাড়িত নায়। ইতা কিতা শুরু হইল বুঝরাম নায়। হাবিজুর মিয়া বলেন মাটির কাজ করতে অনেক কষ্ট হয়, শক্তি লাগে। এরকম কাজ করে মুজুরি না পাইলে এরচেয়ে কষ্ট আর কুন্তা নাই। একই কথা বলেন, বিরামপুর, গুচ্ছগ্রাম, বৃন্দাবননগর গ্রামের মাটি কাটার শ্রমিক রমজান আলী, সোনাই মিয়া, সাইফুদ্দিন, ময়না মিয়া, মহিম মিয়া, শরীফ উদ্দিন, শফিক মিয়া,সিরাজ মিয়া, তাজুল ইসলামসহ অর্ধশত মাটি কাটার শ্রমিক। শ্রমিক সর্দার মোশাহিদ আলী বলেন, তার অধীনে দুই শতাধিক শ্রমিক কানলার হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধে মাটি ফেলার কাজ করেছে। মাটির কাজ শেষ হলেও এখনো বাধে বাশ বস্তা র্দুমুজের কাজ রয়ে গেছে। প্রতিদিন শ্রমিকরা তাকে পাওনা টাকার জন্য তাগিদ দেয় তিনি কোন উত্তর দিতে পারেন না। মাঝে মধ্যে ফোন বন্ধ করে রাখেন। এরকম চলতে থাকলে হাওরে কোন বাঁধের কাজ ভালো ভাবে শেষ হবে না। কানলার হাওরের ৩১ নং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আনোয়ার মিয়া বলেন, বাঁধে মাটি ফেলার কাজ অনেক আগেই শেষ করছি। যে টাকার মাটি ফেলা হয়েছে তার অর্ধেক টাকাও দেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। এখন টাকার অভাবে বাঁধে র্দুমুজ, বাঁশ, বস্তা, চাটাই ফেলার কাজ করতে পারছেন না। কবে পানি উন্নয়ন বোর্ড টাকা দেবে আর কবে এসব কাজ শেষ হবে তিনি তা বলতে পারেন না। এদিকে বৃষ্টিপাত শুরু হলে বাঁধে কাজ করা আরও কঠিন হয়ে যাবে। হাওরের বিভিন্ন পিআইসি কমিটির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানাযায়, সব পিআইসি অর্থ সংকটের কারণে বাঁধের কাজ ভালো ভাবে শেষ করতে পারছেন না। অধিকাংশ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি যে পরিমাণ মাটি বাাঁধে ফেলেছেন তার টাকা পাননি। পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানাযায়, চলতি বছর জেলা ছোটবড় ৫২ টি হাওরের ১৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮০৯ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ৬২০ কিলোমিটার ডুবন্ত বাঁধ ও ২০৮ টি ব্রীজ নির্মাণ করা হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির বাবদ ছাড় দেয়া হয়েছে মাত্র ৬২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। বকেয়া রয়েছে ৭০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। বাঁধের মাটির কাজ ৮০ ভাগ শেষ হলেও ঝুঁকিপুর্ন ব্রীজে বাঁশ,বস্তা, চাঁটাই ফেলা র্দুমুজ করা ঘাস লাগানোর কাজ বাকী রয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল সিদ্দিকী, পাওনা টাকা দিতে না পারায় বাঁধের বাকী কাজ শেষ করতে পারছেনা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি। দ্র্রুত টাকা ছাড় দেয়া প্রয়োজন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সবিবুর রহমান বলেন, পিআইসিদের বিল প্রদানের টাকা ছাড় দেয়ার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। টাকা ছাড় হলে পিআইসিদের বিল পরিশোধ করা হবে। এবিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের যোগাযোগ অব্যহত রয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে