আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রথম প্রহরে মোমবাতি জ্বালিয়ে আঁধার ভাঙ্গার শপথ নিল “আমরাই পারি “জোট

0
229

বিশেষ প্রতিনিধি : ৮ই মার্চ, রাত ঠিক ১২টা বেজে এক মিনিটে শহীদ মিনারে সম্মিলিতভাবে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে শপথ বাক্য পাঠ করে করোনার সময়ে স্বল্প পরিসরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করল “আমরাই পারি” পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট। এই পালনের মধ্যে দিয়ে আমরাই পারি জোটের “আঁধার ভাঙার শপথ” কর্মসুচিটি ১২ বছর অতিক্রম করল। আমরাই পারি’র জনপ্রিয় এই কর্মসুচির যুগপূর্তিতে শহীদ মিনারে অবস্থানের পাশাপাশি অনলাইন কর্মসুচিতে অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন আমরাই পারি জোটের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রানালয়ের সভাপ্রধান মাননীয় সংসদ সদস্য মেহের আফরোজ চুমকি, জাতীয় কমিটির সদস্য ফওজিয়া খন্দকার ইভা, শিপা হাফিজা, এমবি আখতার, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং আমরাই পারি ৪৮টি জেলার জেলা জোটের আহ্বায়কবৃন্দ। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছে আমরাই পারি জোটের নির্বাহী সমন্বয়কারী জিনাত আরা হক।

জাতিসংঘের এবারের স্লোগান “করোনা বিশ্বে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করি, সমতা অর্জনে নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করি”- এই স্লোগান নিয়ে এ বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপিত হচ্ছে। আমরা সবক্ষেত্রে নারী পুরুষের সমঅংশীদারিত্ব নিশ্চিতকরণের একই সময়ে আমরা নারীর জন্য প্রতিটি স্থান, প্রতিটি সময়, প্রতিটি মুহূর্তকে নিরাপদ করার জোরালো দাবী জানাই। আমরা জানি নারীর চলাচলের স্বাধীনতায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে মনের আঁধার, রাতের আঁধার নয়।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রানালয়ের সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, আমার সৌভাগ্য যে আমরাই পারি’র ১২ বছর ধরে উদযাপিত আঁধার ভাঙার শপথ কর্মসুচিতে আমি প্রতিবার আপনাদের সাথে থাকতে পেরেছি, হাঁটতে পেরেছি”। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে প্রচুর সমস্যা থাকার পরেও নারীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ দেখেছে কি করে করোনার অতিমারীকে প্রবল সাহসিকতা এবং দক্ষতার সাথে মোকাবেলা করা সম্ভব! তবুও নারীর প্রতি সহিংসতা কমছে না যা অত্যন্ত দুঃখের বিষয়। তিনি নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে একযোগে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনলাইন কর্মসুচিতে আমরাই পারি জোটের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল বলেন, বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের অনেক অগ্রগতি ঘটেছে। তিনি নারী নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সমতায়নের মেলবন্ধন হবার পথে প্রচুর ঘাটতি রয়েছে। তিনি একইসংগে বিভিন্ন প্রকার বৈষম্যমূলক আইন বিশেষ করে ডিজিটাল সিকিউরিটি এক্টের বিরুদ্ধে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন যা নারীর অধিকার এবং মানবাধিকার লংঘনের ঘটনাটিকে বাড়িয়ে দেয়।

প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরেও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন এবং শপথ বাক্য পাঠের মধ্য দিয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ ও নারীর জন্য প্রতিটি স্থান ও মূহুর্তকে নিরাপদ করার আন্দোলনককে বেগবান করার প্রত্যাশা জ্ঞাপন করা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে